বাজেটে কৃষি খাতে ৪০% বরাদ্দের দাবিতে গৌরীপুরে বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি পেশ
বাজেটে কৃষি খাতে ৪০% বরাদ্দের দাবিতে গৌরীপুরে বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি পেশ
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
আসন্ন বাজেটে উন্নয়ন বাজেটের ৪০ ভাগ কৃষি খাতে বরাদ্দ এবং ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণসহ ২২ দফা দাবিতে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে| বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠন গৌরীপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী বরাবর এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়| উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন|
এর আগে গৌরীপুরের হারুন পার্ক এলাকায় এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়| সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ (মার্কসবাদী) গৌরীপুর উপজেলার আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের সংগঠক আরিফুল হাসান, সদস্য সাইয়েদুর রহমান খান পাঠান লিংকন, মো. খায়রুল ইসলাম, ইব্রাহিম শেখ ও সোহরাব খান প্রমুখ|
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ কৃষির সাথে যুক্ত| অথচ ৫৪ বছরের শাসনে এদেশের কৃষি ও কৃষককে ধ্বংস করে তাদের দিনমজুর ও ভূমিহীনে পরিণত করা হয়েছে| তাই দেশকে রক্ষা করতে হলে সবার আগে কৃষি ও কৃষককে বাঁচাতে হবে|
বক্তারা আসন্ন বাজেটে উন্নয়ন বাজেটের ৪০ ভাগ কৃষি খাতে বরাদ্দ, ধান, ভুট্টা, আলুসহ সকল কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ, মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল, জিনিসপত্রের দাম কমানো এবং কৃষক-ক্ষেতমজুরদের কাজ, খাদ্য ও রেশনিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান|
স্মারকলিপিতে উল্লেখিত ২২ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমানো, ১০ টাকায় ওএমএস এর চাল দেওয়া, শহরে কম দামে পর্যাপ্ত টিসিবি কার্যক্রম সারা বছর চালু রাখা, দলীয়করণ ও হয়রানি বন্ধ করা এবং আর্মির রেটে রেশন প্রদান করা| এছাড়া সরকারি উদ্যোগে ইউনিয়ন পর্যায়ে ক্রয় কেন্দ্র ও খাদ্য গুদাম খোলা, জেলায় হিমাগার নির্মাণ, কৃষি ঋণ মওকুফ করা, সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহার, বিনাসুদে সহজ শর্তে ঋণ দান এবং এনজিও ও মহাজনী ঋণের অমানবিক শোষণ-জুলুম আইন করে নিষিদ্ধ করাসহ কিস্তির হয়রানি বন্ধের দাবি জানানো হয়|
আন্দোলনকারীরা সকল বয়স্ক, বিধবা, ¯^ামী পরিত্যক্তা ও প্রতিবন্ধীদের মাসিক ভাতা ৫০০০ টাকা করার দাবি জানান| একই সাথে ইউনিয়ন হেলথ সেন্টারে এমবিবিএস ডাক্তার ও নার্স নিয়োগসহ পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ এবং ভূমি অফিস, রেজিস্ট্রি অফিস, ইউনিয়ন, পৌরসভা, থানা ও তথ্য অফিসে ঘুষ-দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধের জোর দাবি তোলেন| বিশেষ করে জন্মনিবন্ধন, মৃত্যু সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানানো হয়|
বক্তারা স্মারকলিপি প্রদানের সময় বলেন, ক্ষেতমজুরদের সারা বছর কাজের নিশ্চয়তা, ১২০ দিনের কর্মসৃজন, টিআর, কাবিখা-কাবিটা প্রকল্প চালু রাখা, হাটে হাটে ইজারাদারি জুলুম বন্ধ করে সরকারি টোল চার্ট লাগানো এবং পল্লী বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং, ভূতুড়ে বিল ও হয়রানি বন্ধ করে বিনা পয়সায় সংযোগ ও মিটার ভাড়া বাতিলের দাবি জানান| এছাড়া সরকারি খাস জমি উদ্ধার করে প্রকৃত ভূমিহীনদের মাঝে বণ্টন, বেকার সমস্যা সমাধানে জেলায় জেলায় কৃষিভিত্তিক সরকারি শিল্প কারখানা নির্মাণ, বন্ধকৃত পাটকল ও চিনি কল অবিল¤ে^ চালু এবং ইকোনমিক জোন, পাওয়ার প্ল্যান্ট ও ইটভাটার নামে কৃষি জমি ধ্বংস বন্ধসহ নদী ভাঙন ও বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান ও ধান বিক্রির সময় ধলতা প্রথা বালিতের দাবি জানানো হয়|
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স